“কুয়েট একদিন আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে” - কেসিসি মেয়র


বর্ণিল আয়োজন আর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ০১ সেপ্টেম্বর রবিবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ১৬তম বর্ষপূর্তি, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মাননীয় মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। দিনটিকে স্মরণীয় করতে সেজেছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বত্রই ছিল সাজ-সাজ রব। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি সমাবেশ। এরপর পৌনে ১০টায় জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। পতাকা উত্তোলন শেষে প্রধান অতিথি বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি’র একটি চৌকস দল প্রধান অতিথিকে গর্ড অব অনার প্রদান করে।

এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেসিসি’র মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, “কুয়েট একদিন আন্তর্জাতিকমানের বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত হবে। ১৯৭৪ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা ছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শীতার প্রমান। বঙ্গবন্ধু খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজকের কুয়েট”। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন এবং শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৯ উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও ইইই অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ।
এরপর সকাল ১০.০৫ টায় অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথিসহ বাহারী সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ফুলবাড়ীগেট এলাকা প্রদক্ষীণ শেষে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে এসে শেষ হয়। সকাল ১০.৩৫ টা থেকে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজেক্ট ও পোস্টার প্রদর্শনী, কুয়েটের অর্জনঃ অতীত, বর্তমান ও ভাবষ্যৎ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরো মনোনিবেশ করতে হবে, তবেই কুয়েট বিশে^র শীর্ষস্থানীয় বিশ^বিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান করে নিতে পারবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে তাঁর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে”। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৯ উদ্যাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার এবং রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম। পাবলিক রিলেশনস অফিসার মনোজ কুমার মজুমদার এবং আর্কিটেকচার বিভাগের প্রভাষক মুনতাহা মার্জান সেতুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া, শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তফা সারোয়ার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, ছাত্র কল্যাণ কমিটির সদস্য-সচিব সাদমান নাহিয়ান সেজান, কর্মকর্তা সমিতির (আপগ্রেডেশন) সভাপতি জি এম মনিরুজ্জামান, কর্মচারী সমিতির (৪র্থ শ্রেণী) সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান আলী এবং বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরুল ইসলাম।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন, দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উম্মুক্তকরণ, ছাত্র-শিক্ষক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৪ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে ১৯৮৬ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজী (বিআইটি), খুলনায় পরিণত হয় এবং ২০০৩ সালের ০১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এবছর ১৭তম বর্ষে পদার্পন করছে কুয়েট।

No comments

Powered by Blogger.