বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে মেধাবী প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা ছড়িয়ে দিতে হবে - শিক্ষা উপমন্ত্রী


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, চট্টগ্রাম কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত “রক্ত¯œাত” স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন আলোচনা সভার প্রধান অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি। 

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে ৩১ আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যায় আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষ (৬ষ্ঠ তলা)’য় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। আলোচনা সভার শুরুতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের সাথে নিয়ে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম, কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রাক্তন সহ-সভাপতি প্রকৌশলী এম. এ. রশীদ, আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী এস. এম. মনজুরুল হক মঞ্জু,,  ড. প্রকৌশলী এম. এম. সিদ্দিকী, পিইঞ্জ., সম্মানী সহকারী সাধারণ স¤পাদক প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম হাজারী,  প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ, আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু), পিইঞ্জ., উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও ফটিকছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব এটিএম পেয়ারুল ইসলাম,  প্রকৌশলী রাজীব বড়–য়া প্রমুখ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জনে দেশের মেধাবীরা সবচেয়ে বেশী এগিয়ে। এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারিগরী ও প্রকৌশল শিক্ষার প্রসারের মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার যে স্বপ্ন দেখতেন তা ঐ সমস্ত মেধাবী প্রকৌশলীদের এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজটা সহজতর হবে বলে উল্লেখ করেন।  তিনি বলেন, আজকের দিনে দেখা যায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রগতিশীল তথা সমাজের প্রকৃত কল্যানের কথা না ভেবে মধ্যযুগীয় চিন্তা চেতনা ধারণ করে বিপদগামী হচ্ছে। তাদের সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঐ সমস্ত বিপদগামী মেধাবী ছেলেদের সঠিক পথে আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতির স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় ১৪ বছর জেলের অভ্যন্তরে কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত বেশী গবেষণা হবে বাঙালি জাতি ততই সমৃদ্ধ হবে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ কায়েমের পথ সহজতর হবে। প্রধান অতিথি বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস বাঙালির স্বাধীনতা আনায়নের জন্য শুধু নয় স্বাধীনতোত্তর সময়ে যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে পুনর্গঠন এবং দেশ পরিচালনার লক্ষে স্বল্প সময়ে একটি সংবিধান প্রণয়নের জন্য মানবজাতির ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে কখনো মুছে ফেলা যাবেনা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত নিপিড়ীত মানুষের মুক্তিদূত। অত্যাচারিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারাতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে বিদেশী বেনিয়াদের শাসন, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি করে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আর বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হতে হলে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা ব্যক্তিগত জীবনে চর্চার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে প্রকৌশলীদের সক্রিয় ভ‚মিকা রাখার আহŸান জানান। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সদস্যরা বর্তমান আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে সুবিধা ভোগের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে যে চক্রান্তের জাল বুনছে তা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহŸান জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে যখন ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ঘাতকরা জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি যেভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল এবং হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল তারাই ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করেছিল। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে এদেশের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। 

তিনি বলেন, এখনো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে সজাগ থেকে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ও সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করার আহŸান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত “রক্ত¯œাত” নামের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে খতমে কোরআন এবং মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপস্থিত প্রকৌশলী ও অন্যান্যদের এবং এতিমখানায় তবরুক বিতরণ করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.