রুয়েটের সাফী ফিরলেন তবে লাশ হয়ে...


রুয়েটের সাফী ফিরলেন তবে লাশ হয়ে। সকলকে কাঁদিয়ে তিনি চলে গেলেন ওপারে। আর ফিরবেন না। সাফী মাহমুদ ২৮ ঘন্টা পর ফিরেছে। তবে সে আর কোন দিন কথা বলবে না। তার নিতর দেহখানি মলিন হয়ে গেছে। সাফীর লাশ দেখে তার মা- বাবা বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। কেবলই বিলাপ করছেন। বলছেন এই মৃত্যুতে তাদের মনের সকল স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়েছে। 

নওগাঁ ছোট যমুনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর সাফী মাহমুদ রিফাতের (২১) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির মোড় খেয়া ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সাফী মাহমুদ রিফাত নওগাঁ শহরের কুমাইগাড়ী মহল্লার দেওয়ানপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ত্রিপলী বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
 
সাফী মাহমুদ রিফাতের উদ্ধারের দৃশ্য
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নওগাঁ ছোট যমুনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন সাফী মাহমুদ রিফাত। তাকে উদ্ধারে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল কাজ করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো তার সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও বিকেলে দিকে তার সন্ধান মেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে সাফী মাহমুদ রিফাত বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্রিকেট খেলার পর রিফাত তার চাচাতো ভাই উল্লাসকে নিয়ে নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির মোড় শিশু হাসপাতালের পেছনে দুপুর ১টার দিকে ছোট যমুনা নদীতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন।

এ সময় তারা নদীর দক্ষিণ পাশ থেকে সাঁতার কেটে উত্তর পাড়ে যাচ্ছিলেন। সাঁতরে উল্লাস নদী পার হলেও পাড়ে পৌঁছার ৫/৭ ফুট দূরে দুর্বল হয়ে রিফাত পানিতে ডুবে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় ১৬/১৭ জন লোক পানিতে নেমে রিফাতকে খুঁজতে থাকে। জাল দিয়ে টেনেও তার কোনো সন্ধান করতে পারেনি তারা। পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট গিয়ে সেখানে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বিকেলের দিকে রাজশাহী থেকে ডুবরিরা এসে খুঁজতে থাকে।

তবে রিফাতের কোনো সন্ধান মিলেনি। ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত খোঁজা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোন সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

পরে শুক্রবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। নিখোঁজের প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির মোড় খেয়া ঘাটের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নদীর দুই তীরে শত শত নারী-পুরুষ জমায়েত হয়।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র ম্যানেজার সাবের আলী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধা ৭টা পর্যন্ত খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে স্থান পরিবর্তন করে খোঁজা হয়।

অবশেষে বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির মোড় খেয়া ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন হয়তো স্রোতের কোন এক পরতে সাফীর দেহ মিশে যায়। মুহুর্তেই পানিতে ডুবে যান সাফী। পরে যা হওয়ার তাই হয়েছে।




No comments

Powered by Blogger.