শাবি ছাত্রের আত্মহত্যায় প্ররোচনা, সন্দেহের তালিকায় গার্লফ্রেন্ড!


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. তাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মহত্যার প্ররোচনায় শিক্ষকদের পাশাপাশি তার গার্লফ্রেন্ডকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনায় প্রতীকের গার্লফ্রেন্ড কোনভাবে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আত্মহত্যার আগে প্রতীক তার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তখন কি কথা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া বলেন, ডিপার্টমেন্ট, বান্ধবী ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব এবং মানসিক দুরবস্থার ব্যাপারগুলো তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, নীল রঙের কাপড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছি। বাসার সামনে তার বান্ধবীকেও পেয়েছি। এ সময় তার গলায় একটি হেডফোন ছিল। তার কাছে ৩টি মোবাইলও ছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা মোবাইলগুলোও খতিয়ে দেখব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, বছরখানেক আগে প্রতীক একটি মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে যায় এবং সেখানে দুর্ঘটনায় পড়ে মেয়েটি গুরুতর আহত হন। এর আগে অপর একটি মেয়ের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল, প্রায় দু’বছর আগে তা ভেঙে যায়। বছরখানেক আগে প্রতীকের বিরুদ্ধে তার ডিপার্টমেন্টে একটি তদন্ত হয়। বিভাগের ৬ জন শিক্ষক ওই তদন্ত করেন। তদন্ত কমিটির এক সদস্যের দাবি, প্রতীক বছরখানেক ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল। সে দু’জন মানসিক ডাক্তারকেও দেখিয়েছিলেন।

তবে অপর একটি সূত্র বলছে, প্রতীক বিভাগে ফল খারাপ নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এনিয়ে তার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তা তৌহিদার সঙ্গেও তার কথা হতো। প্রতীকের আত্মহত্যার পর শান্তা শিক্ষকদের দায়ি করে ফেইসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি জেনিটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের দায়ি করেছেন প্রতীকের আত্মহত্যার জন্য।

এদিকে কয়েকজন বন্ধু জানিয়েছেন বেশ কয়েকদিন যাবৎ প্রতীক বিমর্ষ থাকতো। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছিল সে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রতীকের বাবা তৌহিদুজ্জামান বলেন, সব বিষয় আমার জানা নেই। এসব বিষয়ে আমার মেয়ে শান্তা তাওহিদা ভালো জানে, সে দেশে আসছে। আর তদন্ত যেহেতু হচ্ছে তাই আপাতত কিছু বলারও নেই।



No comments

Powered by Blogger.