ভবন নির্মাণে যথাযথ মাটি পরীক্ষা ও মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে গত রবিবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০টায় আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে (Performance Analysis of Deep Foundation in weak Soil) ) বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হক ও মূল প্রবন্ধকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, পিইঞ্জ.। কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি অধ্যাপক প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হক দেশের ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে একেক জায়গার মাটির অবস্থান ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন গুণগতমানের হওয়ায় ভবন নির্মাণের পূর্বে মাটির গুণগতমানের পরীক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষ অপারেটর দ্বারা মাটির পরীক্ষা করার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থ সাশ্রয় এবং মুনাফা বেশী করার লক্ষে সর্বনি¤œ দরদাতা অথচ অদক্ষ এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাটি ও আনুষাঙ্গিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে থাকে, যাতে স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়ে শংকা থেকে যায়, ফলতঃ ভবন নির্মাণ ত্রুটিপূর্ন হয়, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভবন হেলে পড়ে অথবা ভেঙ্গে যায় এবং জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ব্যক্তি নিজের জীবন, শরীর ও স্বাস্থ্যের ন্যায় অধিক সতর্কতার সাথে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির গুণগতমান বিবেচনা করে পরিকল্পনামাফিক জাতীয় ভবন নির্মাণ নীতিমালা অনুসরন করে প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন উপাদান দ্বারা ভবন নির্মানের জন্য সকল প্রকৌশলী, স্থপতি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধকার লে. কর্ণেল প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, পিইঞ্জ. বলেন, উন্নয়নমুখি দেশ হিসেবে বহুতল ভবন নির্মাণ সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। নদী, সাগর, পাহাড় ও পর্বত বেষ্টিত এদেশের মাটির গুণগতমান স্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। দুর্বল মাটিতে বহুতল ভবন নির্মাণের পূর্বে যথাযথ পরীক্ষা-নীরিক্ষা সম্পন্ন করে অভিজ্ঞ পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠান অথবা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলীর মাধ্যমে ভবন নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবন্ধকার ভবন নির্মাণের পূর্বে সনাতনি পদ্ধতিতে মাটি ও অন্যান্য পরীক্ষাসমূহ না করে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা-নীরিক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় ভবন নির্মাণ নীতিমালা যথাযথ অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি প্রবন্ধকার পাওয়ার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধকার তাঁর প্রবন্ধে অভিজ্ঞ ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে মাটি ও ভবন নির্মাণের মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ পরীক্ষা-নীরিক্ষার সুবিধা-অসুবিধাসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরে সতর্কতার সাথে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী মোঃ সালাহ উদ্দিন, প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসেন এবং প্রকৌশলী কুদরত-ই রায়হান অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্মানিত মূল প্রবন্ধকারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। 

Powered by Blogger.