মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও শিখন পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই

আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে গত রবিবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০টায় আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে “বাংলাদেশে প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার শিখন ও পাঠদান পদ্ধতি” (Teaching & Learning Methodology in Engineering and Technological Education in Bangladesh) বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও মূল প্রবন্ধকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী এবং কারিগরী আলোচনা ও সেমিনার কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এম. এ. রশীদ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন উন্নতি  ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্হিবিশ্বে নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরী হচ্ছে, তিনি দেশে বিভিন্ন প্রযুক্তি সৃষ্টি ও ব্যাপক প্রসার ঘটানোর জন্য প্রকৌশলী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। দেশের সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সঠিক পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনসহ শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, তবেই ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ অর্জন ও উন্নত দেশের কাতারে অবস্থান তৈরী করা যাবে বলে মন্তব্য করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, নতুন বছরের শুরুতে সারা দেশের স্কুলগুলোতে বিনামূল্যে বই বিতরন উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিটি মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে। বই উৎসবের পাশাপাশি সরকার শিক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রায়োগিক এবং বাস্তবমুখী শিক্ষার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মান সম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ এবং মানব সম্পদে পরিণত করতে পারে সেই হিসেবে প্রকৌশল ও কারিগরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন।

মূল প্রবন্ধকার বলেন, সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন ও ২০৪১ সালে দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে রূপান্তর করতে বর্তমান সনাতনী ও প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও পরিবর্তন করে কর্মমুখী, প্রকৌশল ও কারিগরী এবং গবেষণামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাশসমূহে শিক্ষার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা রাখা, ছাত্রবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, ছাত্র শিক্ষকদের মাঝে বিশ্বস্ত ও সুসম্পর্ক স্থাপন, পাঠ্যক্রম ও পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকিকরণ নিশ্চিত করে শিশু ও কিশোর বয়স হতে সামাজিক, কর্মমুখী, কারিগরী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।  প্রবন্ধকার প্রকৌশল ও কারিগরী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আধুনিক শিক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে গবেষনাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রায়োগিক ও বাস্তবমুখী পাঠদান ও শিখন পদ্ধতির কৌশল অবলম্বনের কথা উল্লেখ করেন। প্রবন্ধকার আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক শিক্ষা উপকরণ এবং আধুনিক শিখন ও পাঠদান কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, উন্নত বিশ্বের ন্যায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিল্প কলকারখানায় অবকাঠামো উন্নয়নে, স্থাপনা নির্মান ও ব্যবস্থাপনায় গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন, পেশাদারীত্ব গুণগতমান বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বিভিন্ন তথ্য ভিত্তিক দিক-নির্দেশনা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তিনি আরো বলেন, আজকের শিশু কিশোর ছাত্র-ছাত্রীরাই উন্নত বিশ্ব তৈরীর কারিগর। শিক্ষা জীবন শুরু হতে তাদের আনন্দের সাথে উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ সৃষ্টি ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ শাহ সাজু, প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ইসমাঈল অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্মানিত মূল প্রবন্ধকারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। 



Powered by Blogger.