খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের সাথে কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর এর মতবিনিময় সভা


দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাদের স্বাগতম। আজকের এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া থেকে আগত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। আমার সঙ্গে উপস্থিত আছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ বজলার রহমান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া ও রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ^বিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আগামী চার বছরের জন্য আমাকে অত্র বিশ^বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেন এবং গত ১৩ আগস্ট, ২০১৮ তারিখে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমি কৃতজ্ঞ। দায়িত্বগ্রহণের পরই আমি আপনাদের সঙ্গে মত বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। এজন্যই আজকের এ আয়োজন।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অধিষ্ঠিত। এ জন্য অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক আমাদের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে। এ অর্জনের মূলে আমাদের স্বাধীনতা, যা অর্জিত হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপোষহীন, সাহসী ও বুদ্দিদীপ্ত নেতৃত্বের গুণে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণ, দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম এবং অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ই আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য শহীদদের ও ৩রা নভেম্বর জেলখানায় নিহত ৪ জাতীয় নেতাসহ ৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং আজ অবধি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা আত্মহুতি দিয়েছে তাঁদের সবাইকে।

এই বিশ^বিদ্যালয় ১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৪ সালের ৩ জুন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজী (বিআইটি), খুলনা এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশে^র সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সক্ষমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞান চর্চার সুযোগ সৃস্টি ও সম্প্রসারণের জন্য  ২০০৩ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এ বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় বিশেষ করে প্রকৌশল শিক্ষায় অন্যতম একটি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ বিশ^বিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে চলার লক্ষ্য অর্জনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষনার মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মাত্র তিনটি বিভাগ, ¯œাতক পর্যায়ে ১ জন ছাত্রীসহ ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করেছিলো। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৩ টি ইনস্টিটিউট, ২০ টি বিভাগ, ৪৬৩৫ জন ¯œাতক ও ৯৬৭ জন ¯œাতকোত্তর শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে এ বিশ^বিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিকস এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান এন্ড রিজিওনাল প্লানিং, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচার, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ¯œাতক ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া তেরটি বিভাগ হতে ¯œাতকোত্তর তথা মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয় ।

আমাদের লক্ষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধশালী, গবেষণাধর্মী ও উদ্ভাবনীময় বিশ^মানের বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত করা। এজন্য আমাদের লক্ষ আগামী দশ বছরের মধ্যে এ বিশ^বিদ্যালয়কে World Ranking এ একটি উচ্চ অবস্থানে নিয়ে আসা। এছাড়া বিশে^র বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করাসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষনা সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।  এজন্য প্রয়োজন আরও আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, বিশ্বমানের গবেষনাগার। শিক্ষা ও গবেষনার এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প এখন পরিকল্পনা কমিশনের চুড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.