শনিবার উদযাপিত হবে কুয়েট দিবস

KUET
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবস। 

ভৈরব-রূপসা বিধৌত এ পাদপীঠে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রীতি সমাবেশ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজেক্ট ও পোষ্টার প্রদর্শনী, টেকনিক্যাল পেপার প্রেজেন্টেশন, আলোচনা সভা, বৃক্ষ রোপন, দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উম্মুক্তকরণ, ছাত্র-শিক্ষক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দোয়া মাহ্্ফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম. শাহ্্ নওয়াজ আলী এবং সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। এবছর ১৫তম বর্ষপূর্ণ করছে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিবছর ০১ সেপ্টেম্বর পালিত হলেও পবিত্র ঈদের ছুটির পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস থাকায় এবছর দিবসটি পালনের কর্মসূচি পালিত হবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার।


খুলনা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশেই ফুলবাড়ীগেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ একর এলাকা নিয়ে মনোরম পরিবেশে ক্যাম্পাস অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের জন্য ভৌত অবকাঠামো, লাইব্রেরী ভবন, আধুনিক ল্যাবরেটরী ও কম্পিউটার সেন্টার, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল, ক্যাফেটেরিয়া, খেলার মাঠ, পুকুর, মেডিকেল সেন্টার, মসজিদ ইত্যাদি বিদ্যমান। বর্তমানে তিনটি অনুষদের অধীনে ২০ টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এই বিশ্ববিদ্যায়ে সাড়ে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এছাড়া তিন শতাধীক শিক্ষক, একশতাধীক কর্মকর্তা এবং প্রায় তিনশত কর্মচারী দিয়ে চলছে কুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্র্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান এন্ড রিজিওনাল প্লানিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, ম্যাটেরিয়ালস্্ সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন, গনিত ও মানবিক বিভাগে স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছে। রয়েছে তিনটি ইনস্টিটিউট। গত ১৩ আগস্ট ২০১৮ থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভিন্নভাবে ঐতিহ্য বহন করছে। এটি ১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৪ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে,  অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও খুলনাবাসীর ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজী (বিআইটি), খুলনা। এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা থাকার কারনে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের আরো তিনটি ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজীসহ এই প্রতিষ্ঠান ২০০৩ সালের ০১ সেপ্টেম্বর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। যাত্রা শুরু হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের।


No comments

Powered by Blogger.