নোবিপ্রবিতে ৯ম ব্যাচের এক সপ্তাহব্যাপী র্যাগ উৎসব


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৯ম ব্যাচের এক সপ্তাহব্যাপী র্যাগ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনার মধ্য দিয়ে বিদায়ের ঘণ্টা বাজে। র্যাগ উৎসবের আগের রাতেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যেন সেজেছিল উৎসবের আনন্দে।
আগের রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে আলো জ্বল-জ্বল করেছে। রাতে আলোকসজ্জা দেখার জন্য বেরিয়েছেন অনেকে। রাত জেগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তায় আলপনা এঁকেছেন তারা।
প্রথম দুইদিন অর্থাৎ ১৭ এবং ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের ১৪টি ডিপার্টমেন্টের অংশগ্রহণে র‌্যাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শুরু হয় এই আয়োজন ।
এই টুর্নামেন্টের পরেরদিন অর্থাৎ ১৯ জুলাই দিনের শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। নানা আয়োজনের মধ্যে ডিজে প্রোগ্রাম এবং ফানুস উড়ানো।
সেদিন আবিরের রঙে রঙিন হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস জীবনের শেষ স্মৃতিটুকু ফ্রেমে বন্দি করার জন্য কেউ কেউ মেতে উঠেন ফটোশুটে। কাছের মানুষগুলোর লেখায় ভরে যায় সাদা টি-শার্ট।
লেখালেখির লগ্ন যেন এসেছিল সেদিন। টি-শার্টে মজার মজার আবেগঘন উক্তি। টি-শার্টের গায়ে কেউ একজন লিখেছে, ‘মিস করব তর সরলতা মিস করব তর এক চিলতে হাসি’।
আরেকজন লিখেছে ‘তোর জন্য একটা ছেলে আজও ভীষণ একা পারলে একটা খোঁজ নিস’। এই হচ্ছে র্যাগ ডে। আনন্দ আর ভালোলাগার র্যাগ ডে ।
২০ এবং ২১ জুলাই সারাদিনব্যাপী চলে আল্পনা উৎসব। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের বিভিন্ন রাস্তায় নানা রঙে শিক্ষার্থীরা আল্পনা আকেন।
আয়োজনের ৬ষ্ঠ দিন কেক কেটে, বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। পরবর্তীকালে তিনি র্যাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন।
এরপরই হইহুল্লুরের মধ্য দিয়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় র্যাগ ডে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ফলজ, শোভাবর্ধন বৃক্ষ রোপণ করেন।
সন্ধ্যায় “নৈঋত কালচারাল নাইট” নামে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পারফর্ম করেন। দেখানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি নিয়ে বানানো শর্ট ফিল্মগুলো।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার শেষেই আকাশে উড়ানো নানা রঙের ফানুশ। নোবিপ্রবির পুরো আকাশ জুড়ে তারার মত জ্বলতে থাকে ফানুশগুলো।
বিদায় বেলায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজু মিয়া বলেন, ‘ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা, আড্ডা, গান সহ শত ব্যস্ততা আর বিচিত্রতায় ভরে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।
ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছি, ক্যাম্পাস কে মিস করব অনেক। ফিরে আসতে চাইলেও হয়তো আসতে পারব না কিন্তু এখানে আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেছি। যা জীবনে কখনো ভুলতে পারব না।
নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী জামিল রহমান জেনিন বলেন, ‘কি বলব ইচ্ছে হচ্ছে নতুন করে আবার শুরু করি ভার্সিটি লাইফ। এই চার বছরে ভার্সিটি লাইফ আমাকে যা দিয়েছে তা আজীবন মনে থাকবে আমার।
এখন যেভাবে গভীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাই। সেটি ভবিষ্যতে চিন্তা করতে গিয়েই চোখ ঝাপসা হয়ে উঠে। মিস করব ক্যাম্পাসের পদ্মপুকুর পাড়, সূর্যাস্তের মোড়, হতাশার মোড়, আকাশমণির হাট, লন্ডন রোড ইত্যাদিকে’।
সবশেষে রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে আগত ব্যান্ড লালন, স্টোন, সহজিয়া এবং ক্যাম্পাসের দ্যা ইন্সপায়ারের আয়োজনে এক কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
সমবেত কণ্ঠে গাওয়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়’ গানে তখন আবেগ গণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


No comments

Powered by Blogger.