ভৌগলিক অবস্থানভেদে সময়োপযোগী ও বিজ্ঞান সম্মত কৌশল প্রয়োগ করে উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি কমানো সম্ভব

আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন। 

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যায় আয়োজিত Multi Criteria Based Coastal Vulnerability Assessment for Bangladesh Coast Using Geospatial Techniques বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। প্রধান অতিথি আরো বলেন, দেশের উপকুলীয় জেলাসমূহ বন্যা, জলোচ্ছাস, সাইক্লোন ও ঘূর্নিঝড়ের কবলে পড়ে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তা বিভিন্ন জরিপ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত করে একদিকে জনগণকে সচেতন করতে হবে, অন্যদিকে প্রতিকারের সুবিধার্থে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে লক্ষে গবেষণা প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দফতর সমূহে আইইবি’র মাধ্যমে সরকারের নিকট পৌঁছানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এছাড়াও তিনি উপকুলীয় অঞ্চলের সমস্যা জলাবদ্ধতা, যানজটসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের উপর গবেষণা করে পরামর্শ প্রদানের জন্য চুয়েটের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক এর পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)’র পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রিয়াজ আকতার মল্লিক। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডবিøউ) প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দে সেমিনারের শুরুতে প্রবন্ধকারের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী এস এম শহিদুল আলম। সেমিনারের মূল প্রবন্ধকার উপকুলীয় ঝুঁকির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত¡ পাওয়ার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধকার তাঁর প্রবন্ধে ১৯৭০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এদেশের উপক‚লীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘটে যাওয়া সাইক্লোন, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যার সময়ে জানমাল ও সম্পদের ক্ষতির পরিমানের তুলনামূলক বিশ্লেষন তুলে ধরেন। প্রবন্ধকার উপক‚লীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতি কমাতে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করে সরকারের উদ্যোগে বনায়ন বেড়ীবাঁধ, স্ইলুসগেইট নির্মাণের পাশাপাশি জনসচেতনামূলক বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে পূর্বের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতি দুর্যোগে জানমাল, প্রাণহানি ও সম্পদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা মোকাবেলার জন্য সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে ভৌগলিক অবস্থানভেদে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ব্যবহার ও বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান বলেন, দেশের এক তৃতীয়াংশ উপকূলীয় অংশে চলমান ঝুঁকি সম্পর্কে গবেষণা ও পরামর্শ মতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যত ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে বলে উল্লেখ করেন। তিনি উপকুলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন দুর্যোগ ও পরিবেশ বিবেচনা করে কি ধরনের শিল্প স্থাপন করা যায়, সেটি গবেষণা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থাপন করার সুপারিশ করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে প্রকৌশলী সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী ও চুয়েট শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার শেষে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্মানিত মূল প্রবন্ধকারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।


No comments

Powered by Blogger.