ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলা বাতিল করলো আর্জেন্টিনা


ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে ইসরায়েলের সাথে ফুটবল ম্যাচ খেলবে না আর্জেন্টিনা। 

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ হিসেবে আগামী শনিবার জেরুসালেমে এ খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন ইএসপিএন স্পোর্টসকে ম্যাচ বাতিলের কথাটি জানিয়েছেন। 

"তারা শেষ পর্যন্ত সঠিক কাজটি করেছে," মি: হিগুয়েইন এ কথা বলেছেন ইএসপিএন স্পোর্টসকে।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে এ ম্যাচ বাতিলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি ফুটবল এসোসিয়েশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। 

এদিকে ইসরায়েলের সংস্কৃতি মন্ত্রী মিরি রেগেভ জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, "আমি আশা করি এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা জাতীয় কোন সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেবে না।"

আর্জেন্টিনা ফুটবল ম্যাচ বাতিলের খবর গাজায় ছড়িয়ে পড়ার পর ফিলিস্তিনদের মাঝে বেশ উৎফুল্ল ভাব দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনদের বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে ফিলিস্তিনি ফুটবল এসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সাথে ম্যাচ বাতিলের জন্য আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি এবং তাঁর সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। 

"মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং খেলা জয়লাভ করেছে এবং এ ম্যাচ বাতিলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়েছে," বলেছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জিবরি রাজৌব। 


এ ম্যাচ বাতিলের আগে মি: রাজৌব ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা যাতে লিওনের মেসির ছবি এবং নকল জার্সিতে অগ্নিসংযোগ করে।

ফিলিস্তিনি ক্যাম্পেইন গ্রুপ আভাজ এ ম্যাচ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলো। 

ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা আসার পর তারা আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তকে "সাহসী নৈতিক সিদ্ধান্ত" হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

আভাজ ক্যাম্পেইন গ্রুপের পরিচালক অ্যালিস জে বলেছেন, "এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জেরুসালেমে খেলার সাথে বন্ধুত্বের কোন সম্পর্ক নেই। কারণ এর কয়েক মাইল দূরে ইসরায়েলি বন্দুকধারীরা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনদের গুলি করে মারছে।"

বিশ্বকাপের আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ।পশ্চিম জেরুসালেমের একটি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। 

জেরুসালেম ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের জন্য খুবই স্পর্শকাতর জায়গা। 

পুরো জেরুসালেমকে ইসরায়েল মনে করে অবিভক্ত রাজধানী।অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে মনে করে। 

আর্জেন্টিনা এবং ইসরায়েল ম্যাচটি প্রথমে হাইফা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

কিন্তু পরবর্তীতে সেটি পশ্চিম জেরুসালেমে সরিয়ে আনা হয়। এ সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করেছিল ফিলিস্তিনিদের। 

গতমাসে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে আনার মাধ্যমে শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। 


বিবিসি
 

No comments

Powered by Blogger.