“মেধাবিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা ও প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়” -মহামান্য রাষ্ট্রপতি


“পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা এবং কেবল সনদ প্রদানই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং মেধাবিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা ও প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডে যাতে শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারে তার দ্বার উন্মোচন করাই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সুনির্দিষ্ট পাঠক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও ব্যবহার এবং আবিস্কার সম্পর্কে নিজস্ব কর্মসূচি থাকতে হবে”। ০৪ এপ্রিল বুধবার বেলা ৩.০০টায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জনাব মোঃ আবদুল হামিদ কথাগুলো বলেন। 

তিঁনি আরো বলেন, “জাতি গঠনে প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব অত্যাধিক। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা একটি জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করে। প্রকৌশলীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রুপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা ও চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উপনীত হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এখন উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়। স্বপ্নের পদ্মাসেতু আজ আমাদের সামনে দৃশ্যমান। এই রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তোমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়তে এগিয়ে আসবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।

সমাবর্তন বক্তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রশীদ চেয়ার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আসগর বলেন, “শিক্ষার সম্পর্ক জ্ঞানের সঙ্গে, যার জগৎ বিপুল ও বিকাশমান। মানুষের সবচেয়ে দুঃসাহসিক অভিযান হল জ্ঞানের জগতে। শিক্ষা লাভের মূল ভিত্তি অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার মূল লক্ষ্য বুদ্ধির আলোকে সেই অভিজ্ঞতাকে পরিশুদ্ধ করা”।

বিশেষ অতিথিরবক্তৃতায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, “উন্নত জাতি গঠনের অপরিহার্য শর্ত হলো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ নাগরিক তৈরী এবং সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জ্ঞান ও অর্ন্তদৃষ্টির প্রসার ঘটানো। বিশ্বায়নের পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে হলে এবং আগামীর পৃথিবীতে মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই”। 

ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও গ্রাজুয়েটবৃন্দের বিচরণ ক্ষেত্র হবে নীলাভ সমুদ্রের তলদেশ থেকে সুনীল আকাশ পর্যন্ত। এজন্য প্রয়োজন আরো আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মাঝে চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরী করা”।


এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রফিক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার ও রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, নির্বাচিত জন প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিগণ, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ, অভিভাবক ও গ্রাজুয়েটগণ, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সর্বমোট ২৭৯৫ জনকে স্নাতক ও ২২৮ জনকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করেন। এর মধ্যে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ২৬৫৭,  বিইউআরপি ১৩৮, এমএসসি ৬৯, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ১০৩, এমফিল ৪৮ এবং ০৮ জনকে পিএইচডি ডিগ্রীর সনদ প্রদান করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ০৭ জনকে নিজ হাতে পিএইচডি ডিগ্রীর সনদ তুলে দেন এবং স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ পরিয়ে দেন ৩৬ জন কৃতি গ্রাজুয়েটকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২৫ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস বিস্ফেরনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.