গ্রাম-গ্রামান্তরে আলো ছড়াচ্ছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার


অনেক দিন পর প্রবাসী মেয়ে-জামাইয়ের মুখোচ্ছবি দেখে খুশি হলেন মুজিবর রহমান। তাদের সাথে আলাপচারিতা শেষে হাসি মুখে ফিরলেন বাড়িতে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২নং মৌতলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ইচ্ছে হলেই মেয়ে-জামাইয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। মুজিবর রহমানের বাড়ি পশ্চিম মৌতলায়। তার মেয়ে-জামাই থাকে ইতালির রোমে। তিনি মেয়ে-জামাতার সাথে কথা বলতে প্রায়ই আসেন মৌতলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে। ভিডিও কলের মাধ্যমে শোনেন তাদের কথা, বলেন বাড়ির খবর।

তিনি বলেন, এখানে বসে মেয়ে-জামাইকে দেখে খুব ভাল লাগে। সেখানে যাওয়ার পর মেয়ের বাচ্চা হয়েছে। নাতি তুলতুলে গালে আধো আধো গলায় আমার সাথে কথা বলে। শুনে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আগে এ সুযোগ ছিল না। এখন সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে।

শুধু মুজিবর রহমান নয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতিদিন হাজারো সেবা গ্রহণ করছেন সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে রঘুনাথ মহালদার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি তার জমির কাগজপত্র উঠাবেন। রধুনাথ মহালদার জানান, আগে জমির পর্চার জন্য বিভিন্ন অফিসে ছুটতে হতো। কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে কোন প্রকার হয়রানি এবং ঘুষ ছাড়া খুব সহজেই এখন জমির পর্চা তোলা যায়। আর ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার হওয়ায় এখন শহরে যাওয়া লাগে না। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী আগড়দাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজাহান আলী। তার ভাইয়ের মেয়ে ও জামাতা থাকেন সিঙ্গাপুরে। মোবাইল সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় মেয়ে-জামাতার সাথে যোগাযোগ করতে তাকে আসাতে হয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হয়ে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে মেয়ে-জামাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে হলে সাতক্ষীরা শহরে যেতে হতো। শ্যামনগরের উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের আবু সাইদ নামে এক তরুণ জানান, এসএসসি পরীক্ষা শেষ। এখন স্কুলে যেতে হচ্ছে না। তাই ইউনিয়ন পরিষদের ডিসিটাল সেন্টারে কম্পিউটার শিখছি। শুনেছি এখান থেকেই কলেজে ভর্তির আবেদন করা যায়। একই ইউনিয়নের শাহরিয়ার ইমতিয়াজ পলক বলেন, আগে হাতে চাকরির আবেদন করতে নানা ঝামেলায় পড়তে হতো। চালানের মাধ্যমে টাকা দিতে হতো। তারপরও বাড়িতে প্রবেশপত্র আসতো না। এখন অনলাইনে আবেদন, আর এসএমএস-এ টাকা দেওয়া হয়। কত ঝামেলা যে কমেছে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ। যখন দরকার, চলে আসি। ঝামেলা শেষ। তিনি বলেন, দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, ডিজিটাল হচ্ছে। তার প্রমাণ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এখানে আসলে বোঝা যায় হয়রানি ছাড়াই মানুষ সেবা পাচ্ছে।

মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রার, কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট, স্ক্যানিং, নাগরিক সনদ, ছবি তোলা, ফটোকপি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইনে জমির পর্চার আবেদন, জমির ডিসিআরের আবেদন, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সরকারি-বেসরকারি ডাটা সরবরাহ, চাকরির আবেদন, অনলাইনে পরীক্ষার রেজাল্ট প্রদান, ওয়ারেশ কায়েম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ভর্তির আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষের হয়রানি কমছে। সেবা নিশ্চিত হচ্ছে। মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, আগে মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে আসতো না। ডিজিটাল সেন্টারের কারণে এখন ইউনিয়ন পরিষদই সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



(বাসস)


 

No comments

Powered by Blogger.