আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আন্দোলনকারীরা


শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ফাঁকা ফাঁকা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা তাদের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা সোমবার সকালে এ কথা বলেন।

এর আগে রবিবার গভীল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসতে চায়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।

এদিকে রমনা জোনের পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী ৮ এপ্রিল বিকালে কোটা সংস্কার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান করে আন্দোলনকারীরা। প্রথমদিকে পুলিশ তাদের বাধা না দিলেও রাতে বাধায় বিপত্তি। রাত পৌনে ৮টায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল, ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান। এসময় আন্দোলনকারীরা ঢাবি গ্রন্থাকারের আশেপাশেসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে রাত ১২টা অবধি আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ পালাক্রমে টিয়ারশেল,ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষার্থীরা রাত১২ টার পরে ক্যাম্পাসের টিএসসিতে জড়ো হতে থাকে। এ সময় বিভিন্ন হলের ছাত্রীর নিজ হলের গেইট ভেঙ্গে বের হয়ে পুলিশি হামলার নিন্দা জানায়।

আর এসব ঘটনায় ঢাবি প্রশাসন নিশ্চুপ ছিল দাবি করে আন্দোলনকারীরা রাত ১টার দিকে ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সেখানে তারা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে উপাচার্যের বাসভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসার ভেতর থেকে আসবাবপত্র গেটের বাইরে এনে সেগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেন। বাইরে থাকা ফুলের টব ও জানালার গ্লাস ভেঙে তছনছ করা হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসময় উপাচার্যের বাসভবনে থাকা একাধিক গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। রাত ২ টা পর্যন্ত এ ভাঙচুর চলতে থাকে।

শেষ রাতে ঢাবির চারুকলা অনুষদেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। সেখানে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য আনা দেড়শ বাঁশ এবং অসংখ্য কাঠের টুকরো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

সোমবার ভোরে কার্জন হল এলাকায় পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয় আন্দোলনকারীরা। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা যায়। সোমবার ভোর ৬টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কার্জন হলের দিকে যায়। মিছিলে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।

বারবার ছাত্রলীগ আর পুলিশের তাড়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা ঢাবি ক্যাম্পাসে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছে।


বিবার্তা

 

No comments

Powered by Blogger.