আপনি যদি কখনও গ্রেফতার হন তবে আপনার অধিকার বা করনীয় কি????


(১) আপনার বিরুদ্ধে কোন ওয়ারেন্ট আছে কিনা তা জানতে বা দেখতে চাইতে পারেন এবং অবশ্যই গ্রেফতার এর কারন সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।

(২) এসময় আপনার পরিচয় ( নাম, ঠিকানা, পেশা ইত্যাদি ) সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এর নিকট তুলে ধরুন এবং যদি সম্ভব হয় তবে এর সপক্ষে কোন পরিচয়পত্র তুলে ধরুন।

(৩) দ্রুত আপনার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীকে গ্রেফতার এর বিষয়টি জানান।

(৪) গ্রেফতার এর বিষয়টি উপরোক্ত ব্যাক্তিদেরকে জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে সরাসরি বিষয়টি জানান এতে আপনার আইনগত সহায়তা পাবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

(৫) গ্রেফতার এর পর হাজতে আটক রাখার সময় পুলিশ অফিসার আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন- মোবাইল, টাকাপয়সা, কাগজপত্র ইত্যাদির একটি তালিকা তৈরি করে জমা নিবেন, সতর্কতার সাথে তালিকাটি পরে নিশ্চিত হবার পর সাক্ষর করুন।

(৬) গ্রেফতার হবার পর আপনি পুলিশ অফিসার এর আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য না, তবে আপনি যদি কোন বিবৃতি দেন তবে তা সতর্কতার সাথে পাঠ করে আপনার বক্তব্য বা ভাষ্য সঠিক আছে নিশ্চিত হবার পর স্বাক্ষর করবেন।

(৭) গ্রেফতার এর কোন পর্যায়ে অসুস্থ হলে আপনি আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে এর রিপোর্ট সংগ্রহে রাখবেন এবং চিকিৎসা প্রদানকারী ডাক্তার এর নাম পরিচয় জেনে রাখবেন যা সাক্ষ্য পর্যায়ে আপনার কাজে লাগবে।

পুলিশ কোন ব্যাক্তিকে ওয়ারেন্ট বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে বা অন্য কোন কারনে গ্রেফতার করতে পারে। ওয়ারেন্ট এর অধীনে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুসারে তিনি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইতে পারেন এবং ৫৪ ধারা বা অন্য কোন কারনে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে তিনি গ্রেফতার এর কারন সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন । বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুসারে, গ্রেফতারকৃত কোন ব্যাক্তিকে আটকের কারন না জানিয়ে আটক রাখা যাবে না ও আটক ব্যাক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এতে আরও বলা আছে যে, গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট হাজির করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ ব্যাতিত তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না।
- সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবি

No comments

Powered by Blogger.