সংঘর্ষের পর রুয়েট ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত


আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। এঘটনায় রুয়েট ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রাতেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরতি এক আদেশে রুয়েট ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ।

BCL Press Release
তিনি জানান, রুয়েট ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা ছাড়াও সভাপতি নাঈম রহমান নিবির ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুকে শোকজড করা হয়েছে। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে কেন সংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না তা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাদের কারণ জানতে বলা হয়েছে।

মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব জানান, পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মহনগর ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ রুয়েট ক্যাম্পাসে যায়। পরে তারা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করে হামিদ হল থেকে আহত আটক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আহত সবাই রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর সমর্থক। তবে কি নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি এই ছাত্রলীগ নেতা।

মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান বলেন, রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবির ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ওসি শাহাদত বলেন, রাত সোয়া ১১টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথম কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এর পর সভাপতির সমর্থকরা জড়ো হয়ে হলের গেট বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের পিটিয়ে জখম করে। রাত সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ ও নগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রুয়েটের শহীদ আবদুল হামিদ হলে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাতজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম শফি জানান, রুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় আটজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এদের মধ্যে সাতজনকে ভর্তি করা হয়েছে। আর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

আহতদের মধ্যে ইমরান, রাজন, আশিককে ৮ নং ওয়ার্ডে এবং অর্নব, আবির, রাজ ও মাহাতিরকে ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আর মিতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান এসআই শফি।

 তবে রাজনের অবস্থার অবনতি ঘটায় শুক্রবার বিকেলে তাকে হেলিকাপ্টারযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়।

1

2




এদিকে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। আর রুয়েটের প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থী এজন্য শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতিকে দায়ী করেন। তাদের মতে, শিক্ষকদের স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নিষ্ক্রিয়তার করণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণহীনতা আর প্রশ্রয় পেয়েই এসব ছাত্ররা বেপরোয়া হয়ে উঠে।


No comments

Powered by Blogger.