আমাদের ক্ষমা করিস ভাই


পাবনা জেলা স্কুলের "দিবা-খ" শাখা এর শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন আমাদের প্রিয় হালিম স্যার। পরে আমার দুই ভাতিজা ঢাকা গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়াশুনা করার সুবাধে আমাদের পাবনা জেলা স্কুলের পদার্থের আলতাফ স্যার ও অংকের হালিম স্যার এর সাথে যোগাযোগ ছিল, স্যাররা ঐ সময় বদলী হয়ে ঢাকা গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। 

বিকালের দিকেই আমাদের হালিম স্যার এর ভাতিজা যাকে আমি "ঝন্টু" ডাক নামে চিনতাম, কারণ প্রথম দিকে স্যার আমাকে "ঝন্টু"কে ক্যাম্পাসে দেখে রাখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এখনো আমাদের Rokibul Hasan এর মোবাইল নম্বর "ঝন্টু সিরাজগঞ্জ" নামেই সেভ করা। বিভিন্ন মিডিয়াতে বিভিন্ন নিউজ পাচ্ছিলাম। এই সকলক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন কিন্তু সময় নিয়ে নিউজ করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। আমাদের মিডিয়াও কে কার আগে সংবাদ দিবে সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ফলে কোয়ান্টিটি আছে, কিন্তু কোয়ালিটি নাই। মিডিয়া থেকে ধারণা নিয়ে কল দিলাম নেপালি বন্ধু পঙ্কজকে, পংকজ কাঠমুন্ডু এর বাহিরে থাকলেও অনেক আগ্রহী হয়ে আমার সাথে কন্টিনিউয়াস যোগাযোগ রেখেছে। কাঠমুন্ডু মেডিক্যাল এ তার আত্নীয় ও পরিচিত ডাক্তার আছে কিন্তু এমন ইমার্জেন্সির সময় তাদের পাওয়া অনেক কঠিন। বিকালের দিকেই রকিবুল হাসান এর মৃত্যুর খবর পংকজ নিশ্চিত করে। হাসির ব্যাপারে আইসিইউ এ আছে বলে। রাকিব হাসান এর মৃত্যু সংবাদ আবারও কনফার্ম হই পংকজ থেকে। 
 
এরপর হালিম স্যারকে কল দেই কিন্তু স্যার এর নম্বর বন্ধ পাই,পরে আলতাফ স্যার থেকে হালিম স্যার এর মোবাইল নম্বর নিয়ে, হালিম স্যারকে কল দেই কিন্তু স্যার তখনো কিছু জানেন না। একজন চাচাকে তার ভাতিজা এর মৃত্য সংবাদ কিভাবে দিব ভেবে পাই না। পরে মৃত্য সংবাদ না দিয়েই ফোন রেখে দেই। নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষণ পরে আবার কল দেই, তারপর পৃথিবী সবচেয়ে সত্য ও কঠিন সংবাদটি দেই। ফোন রাখার পর খেয়াল করে দেখি আমার চোখের পানি শার্টের উপর টপটপ করে পরছে। যে ঝন্টুকে ক্যাম্পাসে দেখে রাখার দায়িত্ব আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে স্যার আমাকে দিয়েছিলেন, তার মৃত্যু সংবাদ আমিই স্যারকে দিলাম। ঝন্টু অত্যন্ত মেধাবী ও লাজুক স্বভাবের ছিল।আমি ক্যাম্পাসে অনেকটা লোকাল অভিভাবক এর মতো ছিলাম বলে আমাকে একটু ভয় পেত ও কোন সমস্যায় না পরলে আমার সাথে পারত পক্ষে যোগাযোগ করত না।ক্যাম্পাস থেকে চলে আসার পর ঝন্টুর সাথে প্রায় কথা হয় নাই। চাকুরী এর সময় কিছু কথা হয়েছিল। কিছুদিন আছে বর্তমানে NESCO এ চাকুরী এর আবেদন করেছিল কিন্তু পরীক্ষার কার্ড পায় নাই বলে আমার সাথে যোগাযোগ করে, পরে অনুসন্ধান করে রাকিবুল হাসান এর আবেদনে ত্রুটি পেলাম, ঐ দিন খুব ঝাড়ি দিয়েছিলাম, অনেকবার সরি বলে বলেছিলঃ ভাইয়া এরপর থেকে সতর্ক হবো। গত ১ জানুয়ারি এ নববর্ষ এর শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ৪ জানুয়ারি আমি তাকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম।ঝন্টুও আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এটাই তার সাথে আমার শেষ কথা। ঝন্টু তোকে দেখে রাখতে পারলাম না ভাই। তুই আমাদের ছেড়ে চলে গেলি। তোর বউ, আমাদের ছোট বোন হাসি'কে দেখে রাখার জন্য আমরা সবাই আছি রে। রুয়েট এর ভিসি স্যার এর সাথে আমার দুইবার কথা হয়েছে হাসিকে নিয়ে, সিএসই ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান রবিউল ভাই এর সাথেও যোগাযোগ রাখছি। পংকজ এর সাথে তোর চাচা, হালিম স্যার যোগাযোগ রাখছে। বাংলাদেশ সরকারও হাসি এর পাশে থাকবে। ঝন্টু ভাই আমার, তোর হাসি (সহকারী অধ্যাপক, রুয়েট) এর জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমত সবকিছুই করব। সরকার আছে, রুয়েট আছে, ক্যাম্পাস এর ভাইবোন আছে, দেশবাসী আছে.... শুধু তুই নাই। তুই আর ভয়ে ভয়ে ভাংগা ভাংগা সুরে আমাকে কল দিবি না! তোর জন্য চোখের অশ্রুজল আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই দিতে পারলাম না। আমাদের ক্ষমা করিস ভাই।
 
ব্যবসায়িক কারণে সকল অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হউক। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষ আকাশ পথে আমাদের আস্থা ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।


- প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন

No comments

Powered by Blogger.