শোকে স্তব্ধ কুয়েট, নাফেরার দেশে চার মেধাবী শিক্ষার্থী :: বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক কর্মসূচী


এ শোক মেনে নেবার কোন ভাষা নেই, এ শোক মানিয়ে নেওয়ার কোন যুক্তি নেই। শোকে স্তব্ধ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। বিস্ফোরনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন তিন শিক্ষার্থীই তাদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরোর দেশে।

২৫ মার্চ রবিবার রাত ১টায় ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরেরনের ঘটনাটি ঘটে। কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের চার জন শিক্ষার্থী গত ১০ মার্চ ২০১৮ তারিখ থেকে ০৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত স্কয়ার গ্রুপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য ময়মনসিংহের ভালুকার মাষ্টার বাড়ি এলাকার একটি ৬ তলা ভবনের ৩য় তলায় অবস্থান করছিল। দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। দূর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মার্চ বুধবার রাতে মোঃ শাহীন মিয়া, ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে মোঃ হাফিজুর রহমান এবং ৩০ মার্চ শুক্রবার সকালে দিপ্ত সরকার এর মৃত্যু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। এক শোক বিবৃতিতে কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। চার শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৩১ মার্চ থেকে ০২ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, খবর শোনার পরই ২৫ মার্চ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ঢাকায় অবস্থানরত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতদিন হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসার সবধরণের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চির বিদায় নিলো কুয়েটের  মেধাবী চার শিক্ষার্থী।

এছাড়া, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘটানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিনিধি, বিসিএসআইআর এর বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমন্বয়ে ৭ (সাত) সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যগণ ২৮/০৮/২০১৮ইং তারিখ রাত্রে বার্ণ ইউনিটে যেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনার মুখোমুখী হন এবং ২৯/০৮/২০১৮ইং তারিখে ময়মনসিংহের ভালুকায় মাস্টার বাড়ী এলাকায় অস্থায়ী বাসাটি পরির্দশন করেছেন।


No comments

Powered by Blogger.