"এখনো জঙ্গিদের নির্মূল সম্ভব হয়নি" - যবিপ্রবি ভিসি


যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সরকার অত্যন্ত যোগ্যতা এবং সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করতে পেরেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর অর্থ হলো জঙ্গিদের এখনো সমূলে মূলোৎপাটন সম্ভব হয়নি। জাফর ইকবালের উপর হামলা এটাই প্রমাণ করে।

রবিবার দুপুরে শাবিপ্রবির প্রপেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সরকারের কাছে মুক্তচিন্তার মানুষদের রক্ষায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আর যেন কোনো সুসন্তানকে জঙ্গিবাদের থাবায় পড়তে না হয়। জঙ্গিদের দমনে সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শুধু জাফর ইকবাল নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেত মুক্তমনা, মৌলবাদে বিশ্বাসী নয় শিক্ষকদেরও টার্গেট করা হয়েছে। তাদেরকে রক্ষার জন্য সরকার যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

ড. মো: আনোয়ার হোসেন প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আর কত শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী, মুক্তচিন্তার মানুষ হারালে এই দেশ হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা পাবে? এ পর্যন্ত ১১ জন বুদ্ধিজীবীকে আমাদের হারাতে হয়েছে, তাঁর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ জন স্বনামধন্য প্রফেসর রয়েছেন। সর্বশেষ আক্রমণের শিকার হলেন বিশ্বখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।’

প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, জাফর ইকবাল এমন একজন মানুষ, যিনি স্বাধীনতার চিন্তাকে সংগঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এই দেশ যাতে আবার জামায়াত-শিবির এবং জঙ্গিবাদির হায়েনাদের থেকে মুক্তি পেতে পারে, এ জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। জাফর ইকবালকে অনেক দিন ধরে এই হায়েনার দল একের পর এক হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। এরপরে তাঁর নিরাপত্তায় পুলিশ দেওয়া হয়। হামলার সময় তাঁর সঙ্গে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি হামলার শিকার হলেন, তা যেন অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটন করা হয়। তা না হলে জনগণের মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

যবিপ্রবি ভিসি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে জাফর ইকবালের উন্নত চিকিৎসার জন্য ত্বড়িত ব্যবস্থায় গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানও তিনি।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো: নাসিম রেজা, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মো: জিয়াউল আমিন, শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ দেবেন্দ্র নাথ রায় প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো: নাজমুল হাসান।


No comments

Powered by Blogger.