একুশের গ্রন্থমেলায় ৮৫০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মেচন


অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এক মাসে ৮৫০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এইসব নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২ হাজার ১৭৫ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানিয়ে একাডেমির পরিচালক ও একুশে গ্রন্থমেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ আজ বাসসকে এ কথা জানান। তিনি বলেন ,পৃথিবীর আর কোন বইমেলায় এতো বিপুল সংখ্যক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করার ঘটনা তাদের জানা নেই।

তিনি জানান,নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য বাংলা একাডেমির নির্দিস্ট আবেদনপত্র পূরণ করে নিবন্ধন করতে হয়েছে। নিবন্ধিত তালিকা অনুযায়ি ৮৫০টি নতুন বইয়ের মোড়ক অনুষ্ঠান হয়েছে। কিন্তু সংখ্যা আরও বেশি হবে, কেননা স্টলের সামনে যারা মোড়ক উন্মোচন করেছে-সেই তালিকা তারা একাডেমির কাছে জমা দেননি।

তিনি জানান, মোড়ক উন্মোচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী,বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,কবি,সাহিত্যিক,লেখক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রকাশক, আইনজীবীসহ দেশের বিভিন্ন অংগনের বির্শিস্ট ব্যাক্তিবর্গ।

মাসব্যাপী মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত মঞ্চে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রায় প্রতিটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান প্রকাশনা উৎসব হয়ে ওঠে। বইয়ের ওপর কয়েকজন করে ভাষণ দেন। কথা বলেন বইয়ের লেখক ও প্রকাশক। মঞ্চে থেকে উপস্থাপক বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও স্টল নম্বর ঘোষনা দেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন বিপুল সংখ্যক শ্রেণিপেশার লোকজন,পাঠক ও দর্শনার্থীরা নতুন বইয়ের এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জীবনের প্রথম বই প্রকাশ পেয়েছে এমন দুই শতাধিক লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে এ মেল্ায়। এ ছাড়া খ্যাতিমান,তরুন,নবীন,প্রতিশ্রতিশীল সকল বিষয়ের লেখকের বইয়েরও মোড়ক উন্মোচন করা হয় এ মঞ্চে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় বসবাস করেন এমন অসংখ্য লেখকের বই মেলায় প্রকাশ পেয়েছে, তাদের অনেকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ ছাড়াও মেলায় বিভিন্ন স্টলের সামনে এবং বর্ধমান হাউসের পাশে লিটল ম্যাগাজনের স্টলেও অসংখ্য বই ও ম্যাগাজিনের মোড়ক অনুষ্ঠান হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এক মাসে এতো বিপুল সংখ্যক বইয়ের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন সংস্কৃতি কর্মী ও বাচিক শিল্পী টি মণি খান। তিনি বাসসকে বলেন ‘এক মাসব্যাপী এতোগুলো বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে পেরে আমি গর্বিত। অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, প্রকাশক, বিশিষ্টজনদের সাথে পরিচিতি হওয়ার ভাগ্য হয়েছে আমার। বইয়ের জন্য এমন পরিশ্রম করতে পেরে আমার ভাল লাগছে।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, মাসব্যাপী নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানটি সর্বমহলে খুবই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। অনেক প্রকাশক ও লেখক তাদের নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব আয়োজন করতে পারেন না। শত শত লোকের সন্মুখে উন্মুক্ত মঞ্চে বইটির অনুষ্ঠান হচ্ছে। লেখকের জন্য এই অনুষ্ঠানটা স্বপ্নের মতো। লেখককেও পাঠক সামনে দেখে দেখতে পারছেন ও পরিচিতি হচ্ছেন। 


(বাসস)

 

No comments

Powered by Blogger.