মেলায় চলছে এখন বই ক্রয়ের পালা


একুশের গ্রন্থমেলায় এখন উল্লেখযোগ্য বইবিক্রির পালা শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বেচাকিনি বাড়ছে। সোমবার বিক্রির অবস্থা ছিলো গত দু’দিন ছুটির দিবসের চেয়েও বেশি। ক্রেতারা স্টলে স্টলে গিয়ে বিক্রেতাদের হাতে তালিকা ধরিয়ে দিয়ে বই কিনেছেন।

বাংলা একাডেমির ভেতরে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনে একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বিপুলসংখ্যক বই কিনে ফিরছিলেন এক এনজিও’র কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন চৌধুরী।

তিনি বাসসকে জানান, তাদের সংস্থার কেন্দ্রীয় পাঠাগার ও জেলা শাখা অফিসের জন্য মেলা থেকে ৩৬২টি বই কিনেছেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্র থেকেই কিনেছেন ৭৬টি বই। তিনি জানান, সারাবছর ধরেই তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে বই দেয়া হয়ে থাকে। এ মেলা থেকে তারা প্রতি বছরই প্রচুর বই সংগ্রহ করেন।

গাজীপুরের একটি স্কুলের তিনজন শিক্ষক তাদের পাঠাগারের জন্য বই নিয়ে মেলা থেকে ফিরছিলেন। বাসসকে শিক্ষক হাবিবুর রহমান স্বপন জানান, শুধু পাঠাগারের জন্যই নয়, বছরে স্কুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পুরস্কারের বইও তারা এ মেলা থেকে ক্রয় করেন। তারা আজ এগার হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের বই কিনেছেন।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে আসা সহকারী অধ্যাপক রুবেল আহমেদ জানান, তাদের কলেজের লাইব্রেরীর জন্য তিনি দশ হাজার টাকার বই কিনেছেন। মেলার শেষ দিকে তারা পুনরায় বই ক্রয় করতে আসবেন বলে জানান।

মেলা ঘুরে আজ দেখা যায়, আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে অসংখ্য লোকজনই বই কিনছেন। একাডেমির ভেতরে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্যাভেলিয়ন ও ছোটবড় স্টলগুলোতে সারাক্ষণই ক্রেতার ভিড় ছিল । কমবেশি বই কিনছেন অনেকেই। বেশ কয়েকটি স্টলের বিক্রেতারা জানান, গত দুদিনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের চেয়েও আজ বিক্রি বেশি হচ্ছে। হুমায়ুন আহমদের রকমারী বইয়ের স্টল অন্য প্রকাশের স্টলের সামনে দিয়ে হাঁটাই যাচ্ছিল না। এ ছাড়া কাকলী, অন্বেষা, অবসর, আগামী, সময় ইত্যাদি প্যাভিলিয়নগুলোর অবস্থাও ছিলো একই রকম।

আজ মেলায় ১৪১টি নতুন বই এসেছে। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ভাষা প্রকাশে ড. মিজান রহমানের ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’, ‘মাটি গন্ধ্যা’য় শামসুর রাহমানের নির্বাচিত কবিতার বই ‘মেঘলোকে মনোজ নিবাস’, সময় প্রকাশনে মতিন রায়হানের ‘আমাদের ছায়া ও তরুগণ’, বটেশ্বর বর্ণনে হাবিবুর রহমানের অনূদিত বই ‘ভারতে লর্ড মাউন্টব্যাটেন’, মিজান পাবলিশার্সে আশরাফ মীরের ‘কবিতা সমগ্র’, আমীরুল ইসলামের ‘মায়ের জন্য ভালবাসা’, সূচিপত্রে মোস্তফা জব্বারের ‘একাত্তর ও আমার যুদ্ধ’, অন্বেষায় আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘ মধুসূদন ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, পড়–য়ার স্টলে সুব্রত বড়ুয়ার ‘এগারটি অনূদিত গল্প’, বাংলা একাডেমির স্টলে অনুপম হায়াৎ’-এর ‘বহুমাত্রিক নজরুল’ ও আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, অনন্যায় ইমদাদুল হক মিলনের ‘রমাকান্ত ও সতেরটি বাচ্চা কাচ্চা’, শামসুর রাহমানের বিভাস সংস্করণ ‘বন্দি শিবির থেকে’ ও আখতার হুসেনের ‘বাঘের ছানার নাম সোনালি’।

মেলার মূলমঞ্চে বিকেলে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন হাসনাত আবদুল হাই। আলোচনায় অংশ নেন কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও ফাহমিদা খাতুন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। 


(বাসস)

 

No comments

Powered by Blogger.