দৌলতখান উপজেলায় চলতি মাসের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন


শতভাগ বিদ্যূতায়নের পথে এগিয়ে চলছে দৌলতখান উপজেলা। প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হবে। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দৌলতখান উপজেলা হবে জেলার প্রথম কোন শতভাগ আলোর জনপদ। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ৬’শ ১৫ কিলোমিটার লাইন স্থাপন করা হয়েছে। 

আর মোট লাইন প্রয়োজন ৬’শ ৪৮ কিলোমিটার। বাকি রয়েছে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন। যার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে এখানকার ৩১ হাজার ৫’শ ৯৮ গ্রাহক এর সুবিধা ভোগ করবে। ফলে কমে যাবে শহর ও গ্রামের বৈষম্য।

ভোলা-২ আসন(দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল আজ বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের সুফল আজ প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যূৎ। পল্লী অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার জনপদও আজ বিদ্যূতের আলোয় আলোকিত। এতে করে মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে। ভোলার প্রথম উপজেলা হিসেবে দৌলতখান শতভাগ বিদ্যূৎ সুবিধার আওতায় আনার কার্যক্রমও শেষ পর্যায়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করবেন বলে এমপি জানান।

পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজ্যার (জিএম) মো: কেফায়েতউল্লাহ বাসস’কে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে গ্রাম বিদ্যুতায়নের কথা উল্লেখ করেছেন। তার ধারাবাহিকতায় তার যোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা যদি বিশেষ এ উদ্যোগ না নিতেন তবে অন্ধকারেই থেকে যেত এসব জনপদ।

জিএম আরো বলেন, সমগ্র জেলাকে ২০১৮ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম উপজেলা হিসেবে দৌলতখানকে এবছর সম্পুর্ণ আলোকিত করা হবে। পরে জুন ২০১৮ মধ্যে ভোলাসদরসহ পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার মধ্যে আনা হবে। এতে করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষার মান বাড়বে, অভাব দূর হবে বলে মনে করেন কেফায়েতউল্লাহ। 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র কার্যালয় সূত্র জানায়, শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এ উপজেলায় ইতোমধ্যে আবাসিক লাইন দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৬’শ ৩৭টি পরিবারকে, বাণিজ্যিক সংযোগ ২ হাজার ৮’শ ৯০, শিল্প-কারখানার জন্য ১’শ ১৫টি, সেচ কাজের জন্য ২৮টি লাইন। এছাড়া স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪’শ ৭৮টি লাইনসহ মোট ২৯ হাজার ৮’শ ৮২ জন গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সকলকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে বর্তমানে বাকি রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭’শ ১৬ টি সংযোগ। 

দৌলতখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম খান বাসস’কে জানান, নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ বিদ্যূতায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন’র পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। 

এদিকে চলতি বছরের মধ্যে দৌলতখান উপজেলায় ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ বিতরণের খবরে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। মহাজোট সরকারের আমলে দ্বীপ জেলায় ব্যাপক বিদ্যুত সংযোগ বৃদ্ধি পাওয়াতে মানুষের জীবন-মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্ধকারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে অবহেলিত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা এগিয়ে চলছে। বিগত কোন সরকারের আমলে এমন উদ্যোগ গ্রহণ না হলেও বর্তমান সরকারকে এমন কাজের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয় লুৎফর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সেলিম বলেন, বর্তমনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়াতে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছেলে-মেয়েরা রাত জেগে লেখা-পড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পড়া লেখার আগ্রাহ বাড়াচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিদ্যুতের সুবাধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সুফলও ভোগ করছে নতুন প্রজন্ম।

স্থানীয় এমপি মুকুল আরো বলেন, উপজেলার দুর্গম বিচ্ছিন্ন দুটি ইউনিয়ন রয়েছে। যেখানে পল্লী বিদ্যুতের লাইন এখনই পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই সেসব এলাকায় পর্যাপ্ত সোলারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সরকারিভাবে সোলার বিতরণ করা হচ্ছে। আবার অনেকেই নিজ উদ্যেগে সোলার নিচ্ছেন। এতে করে উপজেলার সর্বত্রই বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে চলতি বছরের মধ্যে।

উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হাওলাদার হাটের ক্ষুদ্র বিক্রেতা কালাম হোসেন ও রতন আলী বলেন, বিগত দিনে তাদের এখানে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পরই হাটের বেঁচা-কেনা শেষ হয়ে যেত। সম্প্রতি এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন আসাতে অনেক রাত পর্যন্ত হাটের কার্যক্রম চলে। ফলে তাদের আয় রোজগারও বৃদ্ধি পেয়েছে।


(বাসস) 

No comments

Powered by Blogger.