বরাদ্দের কানাকড়িও পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো : অধ্যাপক মান্নান


বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন খাতে সরকার গত আট বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এর কানাকড়িও পায়নি।

বরাদ্দ না পাওয়ার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাদ্দ চাইনি। টাকা না চাইলে কেউ তো আর নিজ থেকে টাকা দিবে না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টাকা চাইতে হবে।, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাল-মন্দ আপনাদের উপর নির্ভর করছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যানের জন্য সর্বোচ্চটুকু দেয়ার চেষ্টা করবেন।’

শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই সম্মিলন উপলক্ষে আলোচন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশে এমনএকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে, যেখানে জাতীয় দিবস পালন ও বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখা হয় না। তাদের ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখলে দিনটা অপবিত্র হয়ে যায়। আমি বলি ভাই যান না পাকিস্তানে, প্রতিদিন বোমা ফেলবেন। আপনাদের বাংলাদেশে থাকার দরকার নেই। বাংলাদেশে থাকতে হলে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে হবে, শুনতে হবে ও চর্চা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি রেওয়াজ চালু রয়েছে, সেটি অস্বীকার করার রেওয়াজ। আমাদের যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, এটি অনেকে অস্বীকার করতে চান। যারা অস্বীকার করতে চান বুঝতে হবে তারা নিজের পিতাকে অস্বীকার করতে চান, জন্মদাতাকে অস্বীকার করতে চান তথা বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে চান।’

‘আমি বলি বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১০ কোটি, আপনি বলবেন বাকী ৬ কোটি কোথায় গেল? ১৯৭১ সালের পরে অনেক পাকিস্তানি বাংলাদেশে রয়ে গেছে। তারা বাংলায় কথা বললেও, মনে প্রাণে ধ্যানে জ্ঞানে তথা চিন্তায় তারা পাকিস্তানি। স্বাধীনতার ৪৬ বছরের ব্যাবধানে তারা ৬ কোটি তো হতেই পারে। এই ১০ কোটি বাঙালি আর ৬ কোটি পাকিস্তানির সঙ্গে আমরা নিরন্তর লড়াই করে চলেছি’- বলছিলেন আব্দুল মান্নান।

এর আগে সকাল ১০টায় একটি শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

বেলা ১১টায় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সালমা বানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন।

সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম শিববীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের হাজারো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সম্মিলনের মধ্যে আরো ছিলো স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 


(সানশাইন)

No comments

Powered by Blogger.