ঢাকায় জাতিসংঘের এপিআইএস-এর স্টিয়ারিং কমিটির অধিবেশন শুরু


ঢাকায় শুরু হলো জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (এসকাপ) এর এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশন।

বুধবার সকালে দুই দিনব্যাপী এই অধিবেশনের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইউএনএসকাপ এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম, রোড ট্রান্সপোর্ট ডিভিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন, এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী, ইউএনএসকাপ এ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিমসহ সহ দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা যোগ করেন, যা আজ আর স্বপ্ন নয় বাস্তবে রুপ নিয়েছে। দেশে আইসিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে জ্ঞান আহরণ অনেকটা সহজ হয়েছে।

আবুল মুহিত বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশন আজ ঢাকা থেকে শুরু হলো। আশা করি এই অধিবেশনের মাধ্যমে এশিয়ান সুপার হাইওয়ের কনেক্টিভিটি বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি যত বাড়বে এই অঞ্চলের দারিদ্রের হারও তত কমবে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজ আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি সৌভাগ্যবানদের একজনও বটে। ভাবতেই ভালো লাগছে যে, আমি এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে আইসিটি ব্যাকবোনকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেছিলাম। এসকাপ কমিটি অন আইসিটি আমার সে প্রস্তাব গ্রহণ করার মাধ্যমে এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস) উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশকে এই এপিআইএস এর ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে জাতিসংঘের এসকাপভূক্ত সকল দেশ মিলে এপিআইএস এর ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এপিআইএস এর এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এপিআইএস এর স্টিয়ারিং কমিটি আগামী দুই দিনে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের কার্যকর উপায় বের করতে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী।
এ সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নানাবিধ কার্যক্রম তুলে ধরে পলক বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিককে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করে চলেছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।

অতিথির বক্তব্যে ইউএনএসকাপ এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস এন্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা অনেক দেশই গ্রহণ করছে। ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে রাইজিং স্টারে পরিণত হয়েছে।

এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা মাথাপিছু নিম্ন ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারকারী স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাবে এবং তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য যে, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্টিয়ারিং কমিটির এই অধিবেশনে জাতিসংঘের এসকাপভূক্ত ৫৬ দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে। এই অধিবেশনে এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত কানেক্টিভিটি, ইন্টারনেট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-রেসিলিয়েন্স এবং ব্রডব্যান্ড ফর অল। এই চারটি স্তম্ভ এবং মধ্যবর্তী মেয়াদে (২০১৬-১৮) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

গত ২৯-৩০ আগস্ট ২০১৬ চীনের গুয়াংজুতে এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের এর দ্বিতীয় সভায় বাংলাদেশকে এক বছরের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

এপিআইএস এর চার স্তম্ভ বাস্তবায়ন এশিয়ার প্যাসিফিক অঞ্চলে ডিজিটাল বিভাজন দূর করায় যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ট্রাফিক চলাচলের জন্য বিদ্যমান ব্যয় হ্রাস করবে। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চগতির টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।

No comments

Powered by Blogger.